চোখের জ্বলে প্রবাসীর চিঠি: কেমন আছ মা? (১ম পর্ব)

এক প্রবাসী ভাইয়ের ডায়রীর পাতা থেকে নেয়া লেখাগুলো কারো মনে সামান্য কষ্টের কারন হলেও আমরা দু:খিত। প্রবাস জীবনের মনোকষ্ট ভুলতে লিখেছেন এই প্রবাসী তার ডায়রীতে।(পর্ব-১)

চলুন দেখি এই প্রবাসী আর কি কি বলতে চায়।

একা বড় অসহায় লাগে। কাউকে তোমায় ভাষায় বোঝাতে পারিনা। প্রবাসী কতো ভাই আছে যারা আমারই মতো অসহায়। মা গো তুমি ছাড়া এই আমাকে আর কেউ বুঝবে না। মা ও মা। তুমিই বলোনা আর কতোদিন পরে আমি তোমায় দেখতে পাবো?

গায়ের কাপড়গুলো কতোদিন পরিস্কার করিনা সেটাও মনে নেই। সপ্তাহে একদিন ছুটি থাকে। সেই দিনটাকে ঈদের দিন মনে হয়। কোন কাজ তো দুরের কথা কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলতে ইচ্ছা করেনা। তোমার ছেলে আজ অনেক বড় হয়ে গেছে। এখন আর দুপুরের খাবারের জন্য কাউকে বিরক্ত করেনা। নিজেই নিজের খাবার তৈরী করে, বাসন মাজে, ঘর পরিস্কার করে, বাজার করে।

মাগো, তোমাকে কতোইনা বিরক্ত করেছি, মনে পড়লে নিজেকে সামলে রাখতে পারিনা। আজ বুঝি মানুষ কেন মায়ের জন্য কাদে।কেন মা মা বলে চিৎকার করে। কথাগুলো লিখতে আমার কণ্ঠনালী শুকিয়ে আসছে। ঢোক গিলতেও কষ্ট হচ্ছে, চোখের কোণায় জল জমে গেছে। তুমি তো মা, তাই তোমাকেই বলি এরকম ৭ টা পৃখিবী ঘুড়ে তোমার মতো মা আমি পাবো না।

এই মহামারির সময়ে পড়ে আছি প্রবাসে। যখন তোমার সাথে ফোনে কথা বলি তখন অনেক কথা থাকে যা না বলায় থেকে যায়। তোমার কন্ঠ শুনে আমি যেন প্রান ফিরে পাই। নিজের বলার কিছই থাকেনা। শুধু তোমার কন্ঠ শুনতে থাকি প্রান ভরে।

সূত্র-ফোকাসবিডি

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.