কুড়িগ্রামে জমি-জবর দখলসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে শ্রমিক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

২৫

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা অন্যের জমি জবর দখল করাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কুলি-শ্রমিকরা। আর এসব অন্যায় কাজে খোদ স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতা করারও অভিযোগ উঠেছে। এতে করে উদ্বিঘ্ন উপজেলাবাসী। দ্রুত সমস্যার সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা ভুক্তভোগীদের।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের বাসিন্দা বাদশা শিকদার জানান, তিনি পেশায় ছিলেন বই ব্যবসায়ী। ক্রয়কৃত এবং মিস কেস সুত্রে প্রাপ্ত জমি ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু প্রভাবশালী প্রয়াত আকবর আলীর সাথে ২১শতক জমি নিয়ে প্রায় ২০বছর ধরে জমিজমা ১৪/১৫টি মামলা-মোকাদ্দমা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এসব মামলা মোকাবেলায় করতে তিনি একদমই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ায় এখন খেয়ে না খেয়ে পরিবারের ৫সদস্যদের নিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে তাকে। সুপ্রিম কোর্ট থেকেও মামলার রায়ও পেয়েছেন তিনি। রায় পেলেও প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় এখনো লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। জমি দখলে রাখতে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেবার পরেও পাচ্ছেন না কোন সুফল। মাঝে মধ্যে জমি দখল নিতে প্রতিপক্ষের করা ভাড়াটিয়া কুলি-শ্রমিক আর বহিরাগতদের দ্বারা হামলা ও হুমকির স্বীকার হতে হচ্ছে তার পরিবারকে। ফলে হতাশা গ্রস্থ আর আতংকে দিন পার করছেন তিনি।

বাদশা শিকদারের স্ত্রী আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন,থানার পিছনে বাড়ি হলেও পুলিশের সহযোগিতা দূরের কথা উল্টো খারাপ ব্যবহারের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও পুলিশ তাদেরকে কোন সহযোগিতা করে না। মামলার পিছনে স্বামীর সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন আয় নেই তার। আমি সেলাই মেশিন চারিয়ে কোন রকমে সংসার অভাবের মধ্যে পার করছি। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারি না। সন্তানদের ভালোমন্দ খাবার দিতে পারি না। এমনও দিন যায় রুটি খেয়ে দুই বেলা পার করতে হয়।

একই অবস্থা পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বেলদহ গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আলীরও। জমিজমা সংক্রান্ত মামলা আদালতে চলমান থাকলেও প্রতিপক্ষ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কুলি-শ্রমিক আর ভাড়াটিয়া দিয়ে দফায় দফায় তার বাড়িতে রাত-দিন হামলা চালানো হচ্ছে। কয়েক দফা হামলার স্বীকার এই মুক্তিযোদ্ধার বসত বাড়ি ভাংচুর করে বাগানের গাছ কেটে ফেলে দেয় প্রতিপক্ষ।

এই বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আলী বলেন,আমার ৭বিঘা জমি নিয়ে স্থানীয় মোকতার,শহিদুল,লতিফ,কামরুজ্জামান গংদের সাথে বিরোধ চলছে। ইউনিয়ন পরিষদ, থানা, উপজেলা প্রশাসনে জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিটানোর জন্য সালিশ বসলে তা সমাধান হয়নি। ফলে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। মামলা চলাকালিন সময়ে আমার বাড়িতে রাত ও দিনে ৫বার হামলা চালিয়েছে বিরোধী পক্ষরা। হামলার ঘটনায় মামলা করলে উল্টো প্রতিপক্ষরাও মিথ্যা মামলা দায়ের করারও ঘটনা ঘটিয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষরা হামলার সময় কুলি-শ্রমিক ছাড়াও বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ করেন তিনি।

জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদে হামলার স্বীকার থেকে বাদ পড়েনি ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ইতিমনি। প্রাইভেট পড়ে আসার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন রাস্তায় তাকে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে আহত করেছে বলে জানান ইতিমনি।

কুলি-শ্রমিকদের অর্থের বিনিময়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলে ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি রবিউল ইসলাম লিটন। তিনি বলেন,উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘভান্ডার গ্রামে তার বাড়ি। তার বড় ভাইয়ের সাথে ৩শতক জমি নিয়ে বাটোয়ারা মামলা চলছে। এমন অবস্থায় গত ২ফেব্রুয়ারি দিনের বেলা কুলি-শ্রমিক ভাড়া করে নিয়ে এসে তার বাড়িতে হামলা চালায় তার ভাই। পরে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

রবিউল ইসলাম লিটনের বোন জানান, কুলি-শ্রমিকদের হামলা থেকে নারী-মেয়ে কেউ রেহাই পায়না। তারা জমি দখল করতে এসে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। যে ভাষা গুলো মুখে আনা সম্ভব নয়। ওদের ভয়ে আমরা আতংকে দিন কাটাচ্ছি। সরকার যেন এসব প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়।

কুড়িগ্রাম উত্তর ধরলা বাস-শ্রমিক উপ-কমিটির সভাপতি বশির আহমেদ বাশি স্বীকার করে বলেন,সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা আসলে বহিরাগত লোক শ্রমিকের নাম ভাঙ্গায়। আমরাও তাদের খুঁজতেছি,আসলে তারা কারা। শ্রমিকের নাম ভাঙ্গিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা,বিচার-শালিস করছে তাদের আমরাও খুঁজছি। আমরাও চাই সরকার ভালোভাবে পদক্ষেপ নেক।

এবিষয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ জান্নাত আরা বলেন, জেলার ভূরুঙ্গামারীতে জমিজমা জবর দখল নিয়ে কিছু অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। এই বিষয়ে শ্রমিক সংগঠন ও তাদের তালিকা সংগ্রহ করে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দেন তিনি।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.