সোমবার, জুন ২৪, ২০২৪
spot_img
Homeবিশেষ সংবাদসুনামগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও বৃদ্ধ নারী পুরুষসহ ১০জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

সুনামগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও বৃদ্ধ নারী পুরুষসহ ১০জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জে দিনদিন বেড়েই চলেছে মৃত্যুর ঘটনা। আজ মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সকালে ২জনসহ গত ১২দিনে বিভিন্ন ঘটনার শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী ও বৃদ্ধ নারী-পুরুষসহ ১০জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ পৃথকস্থান থেকে মৃতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। দায়ের করা হয়েছে একাধিক মামলা। মৃতরা হলো- জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার হাদিউল ইসলাম

(২৪),তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া আদর্শ গ্রামের মৃত সামাদ আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৭০), জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের বেহেলী গ্রামের নিখিল চন্দ্র পালের

ছেলে সাগর চন্দ্র পাল (২৮), দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর ওস্তেনেগাঁও গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে আব্দুল খালিক (৪০), একই উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মারপশি গ্রামের মৃত

ইছাক আলীর ছেলে বৃদ্ধ নুর মিয়া (৮৫), বাংলাবাজার ইউনিয়নের উরুরগাঁও গ্রামের মাইনুদ্দিনের ছেলে আবু বক্কর (৪), ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড়-রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের সারিয়াকান্দি গ্রামের

মৃত গনি মিয়া স্ত্রী হনুফা আক্তার (৫০), ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও গ্রামের চমক আলীর ছেলে সাইফুল আলম (৩৪) ও সুনামগঞ্জ পৌরশহরের ষোলঘর এলাকার রুহানুর

রহমানের মেয়ে ও সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী জেসমিন আক্তার তাজিম (১৬) ও চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার শিলাইগুড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে নাসির আলম (২৮)।

পুলিশ ও এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে- আজ মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ-সিলেট আ লিক মহাসড়কের হালুয়ারগাঁও নামকস্থানে ট্রাক ও অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে নাসির আলম (২৮) ও হাদিউল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যু।

এঘটনায় আহত একজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল ও অন্য একজনকে সুনামগঞ্জ ২৫০ শর্য্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল সোমবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা অনুমান

৭টায় জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া আদর্শ গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বৃদ্ধ আব্দুল হাই (৭০) এর মৃত্যু হয়। এঘটনায় নারী-পুরুষসহ

উভয়পক্ষের আরো ৮জন আহত হয়েছে। এঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে গত শুক্রবার (১০ মার্চ) বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের মধ্যবাজারে অবস্থিত সুচিত্র স্বর্ণ শিল্পালয়ের বন্ধ থাকা দোকান ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওই দোকানের কর্মচারী সাগর চন্দ্র পাল

(২৮) কে ঝুলে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে দোকানের দরজা ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করে। কিন্তু সাগর পাল কি আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে কেউ হত্যা করে ঝুলিয়ে দিয়েছে তা জানা যায়নি।

অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) রাত ১১টায় দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের ওস্তেনেগাঁও গ্রামে জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে ফুফাতো ভাইয়ের দায়ের কুপে আব্দুল খালিক

(৪০) গুরুত্বর আহত হলে রাতেই তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু পরদিন শুক্রবার (১০ মার্চ) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এঘটনায় আরো ১৫জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও একই দিন বিকেলে এউপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মারপশি গ্রামের বৃদ্ধ নুর মিয়া (৮৫) এর মৃতদেহ পাশর্^বর্তী মরাখাসিয়া খালের

উত্তর পাশে পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। এর আগে গত বুধবার (৮ মার্চ) সকালে ভিক্ষা করার জন্য বাড়ি বাহিরে যাওয়ার পর বৃদ্ধ নুর মিয়া নিখোঁজ হয়ে যায়।

অন্যদিকে গত বুধবার (৮ মার্চ) রাত ৯টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত বৃদ্ধা হনুফা আক্তার (৫০) এর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এদিন দুপুরে জেলার ধর্মপাশা-

জামালগঞ্জ সড়কের সারিয়াকান্দা নামকস্থানে রাস্তা পারাপারের সময় যাত্রীবাহি একটি মোটর সাইকেলের নিচে পৃষ্ট হয়ে ওই নারী গুরুতর আহত হয়। তিনি ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড়-রাজাপুর

উত্তর ইউনিয়নের সারিয়াকান্দি গ্রামের মৃত গনি মিয়া স্ত্রী। এদিকে গত রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত শিশু আবু

বক্কর (৪) এর মৃত্যু হয়। সে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উরুরগাঁও গ্রামের মাইনুদ্দিনের ছেলে। গত শনিবার (৪ মার্চ) সকালে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে শিশু আবু বক্কর গুরুতর আহত হয়। এসংঘর্ষে উভয়পক্ষের আরো ১০জন আহত হওয়া খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়াও গত শুক্রবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ শহর সংলগ্ন সুরমা নদীর আব্দুস জহুর সেতু থেকে নিচে নদী পড়ে নিখোঁজ হয়ে যায় স্কুলছাত্রী জেসমিন আক্তার তাজিম (১৬)। এখরব পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিরা নদীতে অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

সে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের ষোলঘর এলাকার রুহানুর রহমানের মেয়ে ও সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। অপরদিকে গত ১ মার্চ (বুধবার) রাতে মোবাইলে টিকটক ভিডিও তৈরি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে সাইফুল আলম (৩৪) এর মৃত্যু হয়।

সে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও গ্রামের চমক আলীর ছেলে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় আরো শতাধিক লোকজন আহত হয়। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেব দুলাল ধর, ধর্মপাশা থানার ওসি মিজানুর রহমান, তাহিরপুর থানার ওসি সৈয়দ ইফতেখার হোসেন ও ছাতক সার্কেল সুপার রনজয় চন্দ্র মল্লিক ৮জনের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান- পৃথক ঘটনায় ৮জনের মৃত্যুতে থানায় পৃথক মামলা দায়ের করাসহ একাধিক আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

spot_img
এই বিভাগের অনান্য সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ