বাংলাদেশের একদল গবেষক মাটিতে থাকা এক ধরনের ছত্রাক থেকে রঙ খুঁজে পেয়েছেন

ডেঙ্ক নিউজঃ ছবি সংগৃহীত

১০০

লাল মাটিতে থাকা ‘অ্যাস্পারগিলাস নাইজার’ ছত্রাক থেকে রঙটি আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রযুক্তি ও গ্রামীণ শিল্প

বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এইচ এম নাজমুল হোসেন নাজির, খাদ্য প্রযুক্তি ও গ্রামীণ শিল্প

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মারিয়া আফরোজ তমা-সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক মিলে গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি জার্নাল এমডিপিআই-এ ‘আইসোলেশন অ্যান্ড আইডেন্টিফিকেশন অব ন্যাচারাল কালারান্ট প্রডিওসিং সয়েল-বর্ন অ্যাস্পারগিলাস নাইজার ফ্রম বাংলাদেশ অ্যান্ড এক্সট্রাকশন অব দ্য পিগমেন্ট’- শিরোনামে গবেষণাটির ওপর একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, লাল মাটি থেকে পাওয়া ‘অ্যাস্পারগিলাস নাইজার’ ছত্রাকটি খাবারের মধ্যে হলদেটে রঙ তৈরি করতে পারে। মাটি থেকে ছত্রাকটি আলাদা করে কেক, পাউরুটিসহ বেশ কয়েকটি বেকারি পণ্য এবং লেমন জুসের মধ্যে দেওয়ার পর খাবারগুলোতে হলদেটে রঙ পাওয়া যায়।

গবেষকরা জানান, দেশে বিভিন্ন খাবারে যেসব রঙ ব্যবহার করা হয়, তার বেশিরভাগই হচ্ছে কৃত্রিম। তাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল, প্রকৃতি থেকে রঙ খুজে বের করা, আলাদা করা এবং তা খাবারে ব্যবহার করা। সে লক্ষ্য থেকেই গবেষণাটি করা হয়। গবেষণায় প্রকৃতি থেকেই রঙ বের করে তা আলাদা করা হয় এবং খাবারে ব্যবহার করা হয়।

জানা গেছে, ‘অ্যাস্পারগিলাস নাইজার’ নামের ছত্রাক থেকে হলদেটে রঙের পাশপাশি অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ছত্রাক থেকেও লাল, কালোসহ বিভিন্ন রঙ পাওয়া গেছে। এনিয়ে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, অনেকদিন ধরেই আমরা প্রকৃতি থেকে রঙ আহরণের চেষ্টা করছিলাম।

কারণ, খাবারে যেসব আর্টিফিশিয়াল রঙ ব্যবহার হচ্ছে তা নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে। অনেক প্রমাণও আছে খাবারে কাপড়ের রঙ ব্যবহারের। সেকারণেই আমরা একটি নিরাপদ উৎস খুঁজছিলাম, যা আমরা এবার পেয়েছি।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারলে এটার দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, কাপড়ের রঙ খাবারে ব্যবহার করলে এবং সেই ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে তা থেকে ক্যান্সারের মত বড় রোগের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু, প্রকৃতি থেকে পাওয়া এই রঙ খাবারে ব্যবহার করলে তা হবে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর।

গবেষকরা জানান, গবেষণাটি করতে ছয় মাস সময় লেগেছে এবং এটি গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়। শুরুতে মধুপুরের কয়েকটি জায়গা থেকে ‘লাল মাটি’ সংগ্রহ করা হয়। এই মাটিতে পাওয়া যায় ‘অ্যাস্পারগিলাস নাইজার’ ছত্রাক। ল্যাবরেটরিতে মাটি থেকে ছত্রাকটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলাদা করা হয় এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হয়।

পরের ধাপে কয়েক পদের খাবার তৈরির সময় এটি বিভিন্ন মাত্রায় ব্যবহার করা হয়। তৈরি করা খাবারে এই ছত্রাকের দ্বারা রঙ পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়। শেষ ধাপে এই খাবারগুলো ইঁদুরকে বিভিন্ন পরিমাণে খাওয়ানো হয় এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে ইঁদুরকেগুলোর স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা হয়।

পরীক্ষায় ইঁদুরের শরীরে কোনো ধরনের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। অধ্যাপক ড. কে এইচ এম নাজমুল হোসেন নাজির বলেন, রঙ তৈরিকারী এই ছত্রাকটি প্রকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। অ্যাস্পারগিলাস নাইজারের মতো আরও অনেক ফাঙ্গাস রয়েছে যেগুলো বিভিন্ন ধরনের রং তৈরি করতে পারে বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে।

এই গবেষক জানান, প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া এই রঙগুলো বাণিজ্যিক পর্যায়ে উৎপাদন করে তবেই এর খরচ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। এর জন্য আরও গবেষণার দরকার রয়েছে। পরের ধাপের এই গবেষণার জন্য তহবিল দরকার। উদ্যোক্তারা চাইলে তাদের সঙ্গে মিলে এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.