কোম্পানীগঞ্জে ঘরে ডুকে সাংবাদিক ও মা ছেলেকে কুপিয়েছে একদল সন্ত্রাসী

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নোয়াখালী প্রতিনিধি:

৩৯

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহাজাতপুর গ্রামের সাংবাদিকব প্রশাস্ত সুভাষ চন্দ্র (৪৭) তার বেবী রানী(৬৫) ও ছেলে রন্ত চন্দ্র(২০)কে তাদের বসতঘরে ঢুকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠেছে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

ওই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৪জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের শাহাজাতপুর গ্রামের কবিরাজ বাড়িতে। পরে স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার কওে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সএ পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

আহত প্রশান্ত সুভাষ চন্দ্র দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের বিশেষ প্রতিনিধি ও আ লিক অনলাইন পোর্টাল চলমান সময়ের চীফ রিপোর্টার এবং উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের শাহাজাতপুর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির স্বপন কুমারের ছেলে।

সুভাষের মা বেবী রাণী ও ছোট ভাই প্রজীৎ সুভাষ চন্দ্র অভিযোগ করেন, গত ৫ মাস কোম্পানীগঞ্জে আওয়ালীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিবদমান দ্ব›েদ্ধ অস্থিশীল অবস্থা বিরাজ করছে।

এই সময়ে সুভাষের ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং সংবাদ পরিবেশন নিয়ে সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা তার ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন।

কিছু দিন আগে একটি সমাবেশে বকক্তৃাকালে প্রকাশ্যে কাদের মির্জা সুভাষকে হাঁটুর নিচে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য তার অনুসারীদের নির্দেশ দেন। আজ দুপুর পৌনে ১টার দিকে সুভাষ তার বসত ঘরের সামনের কক্ষে একা শুয়ে ছিলেন।

এ সময় মির্জা কাদেরের অনুসারী কেচ্ছা রাসেল, পিচ্ছি মাসুদ, টুটুল মজুমদার, ইমনের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৪৫জন অস্ত্রধারী হঠাৎ বসতঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা সুভাষকে লোহার রড বেধড়ক পিটিয়ে বাম হাত দুটি অংশে ভেঙ্গে দেয় এবং মাথায় ছুরিকাঘাত করে গুরুত্বর আহত করে।

এ সময় সুভাষের মা এবং ছেলে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও বেধড়ক পেটানো হয়। এক পর্যায়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের শৌর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়।

পরে তাকে তার স্বজনেরা উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালীর সদরে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে জানতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার এক অনুসারী ফোন রিসিভ করে জানায় উনি বিশ্রামে আছে।

ঘটনার পর পরই নোয়াখালী জেলা ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা সাংবাদিক সুভাষের ওপর হামলাকারী এবং নির্দেশ দাতাকে দ্রুত আইনের আওতায় দাবি জানিয়েছেন।

সাথে সাথে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দাও প্রতিবাদ জানান।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.