সুনামগঞ্জে ছেলে হত্যার দায়ে বাবা জেল হাজতে

সুনামগঞ্জ পতিনিধই:

৫১

সুনামগঞ্জে নিজের ছেলেকে খুনি ভাড়া করে এনে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। সেই ঘাতক বাবার নাম- মোহাম্মদ আলী (৫৮)।

তিনি জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহারাম গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে সেই ঘাতক বাবাকে কারাঘারে পাঠানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৫ জুন) দুপুরে তাহিরপুর থানা সূত্রে জানা গেছে- গত ২১ মে রাতে জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহারাম গ্রামের বিলের মাঝে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামের এক যুবককে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়।

পরদিন ২২ মে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এঘটনার প্রেক্ষিতে মৃত জাহাঙ্গীর আলমের বাবা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে এই হত্যা মামলায় মাহারাম গ্রামের আহসান হাবিব (২২), মোঃ সোলাইমান মিয়া (২৫) ও পাশর্^বর্তী করইতলা গ্রামের তৌফিকুল ইসলাম (২৮) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু তদন্ত করার পর বেড়িয়ে আসে আসল রহস্য।

পরে সুরুজ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর সব রহস্য ফাঁস হয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত সুরুজ মিয়া পুলিশের কাছে জানায়- মৃত জাহাঙ্গীর আলম মাদকাসক্ত ছিল।

তার অত্যাচারে তার পরিবারের সবাই অতিষ্ট ছিল। আর সেই অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জাহাঙ্গীর আলমের বাবা মোহাম্মদ আলী গাজীপুর থেকে খুনি সেকান্দর আলীকে ভাড়া করে আনে।

ঘটনার রাতে ৫০০টাকা দেওয়ার কথা বলে সুরুজ মিয়া মোবাইলে ডেকে আনার পর জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যা করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুরুজ মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর খুনি সেকান্দর আলীকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে সেও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এঘটনার পর গত বুধবার (২৩ জুন) রাতে ঘাতক বাবা মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলেনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বলেন- ২০ হাজার টাকা দিয়ে সেকান্দর আলীকে ভাড়া করে এনে নিজের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যা করেছে মোহাম্মদ আলী।

খুনি সেকান্দর আলী ও তার সহযোগী সুরুজ মিয়া ডাকাতি ও ২টি হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটেছে। আর যাদেরকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে তাদের সাথে মোহাম্মদ আলীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এব্যাপারে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোন নিরপরাধ মানুষ শাস্থি পাক এটা আমরা চাই না।

 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.