কিশোরকে মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদে নির্যাতন

তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:

২৩

ভোলার তজুমদ্দিন থেকে কিশোরকে লোভনীয় চাকুরীর ফাঁদে ফেলে চট্টগ্রামে নিয়ে মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোর বর্তমানে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

নির্যাতনের শিকার কিশোর জানান, উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ শম্ভুপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মমিন (২৫) একই বাড়ির কামালের ছেলে শাকিলকে চট্টগ্রামের বাকুলিয়া থানার কালামিয়া মিয়ার

বাজার এলাকায় লোভনীয় চাকুরি ফাঁদে ফেলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৪-৫ মাস কাজ করার সুবাদে শাকিল মমিনের বাসায় থাকতেন। কিছুদিন আগে মমিনের ভাগ্নি জামাই রিপন তাদের বাসায় বেড়াতে যায়।

এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে শাকিল ও রিপন একই রুমে ঘুমায়। সকালে রিপন ঘুম থেকে উঠেলেও শাকিল ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে রিপনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন না পেয়ে শাকিলকে সন্দেহ করেন।

শাকিল প্রতিদিনের মতো কাজে চলে যায়। পরে বেলায় ১১ টার দিকে রিপনের নেতৃত্বে ১০/১২ জন মিলে শাকিলকে ধরে এনে কালামিয়ার বাজারে নুর ইসলামের গ্যারেজের সামনে এনে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারপিট করে।

পরে সেখান থেকে নিয়ে ৩দিন একটি রুমে আটকে রেখে নির্যাতন করে ও প্লাস দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত-বিক্ষত করে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে ওই কিশোর তজুমদ্দিন হাসপাতালে সিটে শরীরের ক্ষত নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রিপন ও মমিন বলেন, মোবাইল চুরি করার পর তাকে ধরে আনলে আমরাসহ স্থানীয় লোকজন শাকিলকে হালকা মারপিট করি। পরে তার খালা ও খালু বিচারের আশ্বাসে তাকে দেশে নিয়ে যায়।

তিনদিন যাবৎ শাকিলের ক্ষত স্থানে মলম লাগানোর কথা স্বীকার করেন মমিন। তবে তিনদিন আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেন রিপন ও মমিন।
নির্যাতনের শিকার কিশোরের পিতা কামাল হোসেন জানান, আমার অবুঝ ছেলেকে লোভনীয় চাকুরীর ফাঁদে ফেলে চট্টগ্রামের বাকুলিয়া এলাকায় নিয়ে মিথ্যা মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেন। এসব সন্ত্রাসীদের আইনের মাধ্যমে যথাযথ বিচার দাবী করছি। তবে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

 

 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.