ঝিনাইগাতীতে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও অগ্নি সংযোগ: নারী সহ আহত -(৩)

শেরপুর প্রতিনিধি:

৬৬

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক,শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার উত্তর ভারুয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসী কায়দায় জমি জবর দখল, হামলা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে।

এতে ঘটনাস্থলেই ১ নারী সহ ৩ জন গুরুত্বর ভাবে আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে মৃত্যেুর যন্ত্রনা নিয়ে ঝিনাইগাতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখে।গুরুত্বর আহতরা হলেন ,

উত্তর ভারুয়া গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে তোতা মিয়া(৩৮), আব্দুল কুদ্দুছ (৬৫), আব্দুল কুদ্দুছের স্ত্রী নুর বানু(৫৫)।

এ ব্যাপারে মৃত আজগর আলীর ছেলে সুরুজ মিয়া(৩৬) বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় ১২ ব্যক্তিকে আসামী করে গত ৪ অক্টোবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

বাদীর দায়ের করা অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ভারুয়া মৌজার আরওআর খতিয়ান নং- ১০৮/১১৪, আরওআর দাগ নং- ৩৭০, বিআরএস খতিয়ান নং – ১৬২,

দাগ নং- ১১৮১ এর জমির পরিমান ২ একর ৯০ শতক জমি ১৯৮৬ সালে জৈনক হিরা খাতুন, নছিমন, মাহমুদা ও মাহবুবের নিকট থেকে রেজিষ্ট্রী দলিলমুলে আজগর আলী ও তার স্ত্রী শুক্কুরজান বিবির নামে ১ একর,

কুদ্দুস আলী গংদের নামে ১ একর, আজগর আলীর নামে ৪০ শতক এবং আব্দুল আজিজের নামে ৫০শতক জমি ক্রয় করেন।

এর পর থেকে জমি ক্রয়কারীরা উক্ত জমি ভোগ দখল করে আসছেন। ইতিপুর্বে কদর আলী ১৯৬৪ ও ১৯৭২ সালে আরওআর মুলে ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত হইয়া ৫২ শতক জমি নছিমন নেছার কাছে রেজিষ্ট্রী মুলে বিক্রি করেন।

কিন্তু জৈনক সোহরাব আলী কদর আলীর কাছ থেকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে ১৯৮৫ সালে আরওআর মুলে উক্ত জমি থেকে ৩৫ শতক জমি ক্রয় করেন। অথচ উক্ত জমিতে কদর আলীর আর কোন অংশ অবশিষ্ট ছিলনা।

সোহরাব আলী তার এ অবৈধ দলিলমুলে গত প্রায় ১২/১৪ বছর ধরে উক্ত জমি বেদখলের একাধিক বার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।কিন্ত ঘটনার দিন তারিখ ও সময়ে আব্দুল কুদ্দুস গংরা তাদের জমিতে ঘর নির্মানের উদ্যোগ নেয়।

তখন পরিকল্পিত ভাবে সোহরাব আলী গংরা সন্ত্রাসী কায়দায় রামদা, লোহার রড়, লাটি সোটা, ফালা নিয়ে আকস্মিক ভাবে আক্রমন চালিয়ে তোতা মিয়ার পায়ের রগ কাটা, হাত ভাঙ্গা ও মাথায় ও পিঠে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।

তদ্রূপ ভাবে আব্দুল কুদ্দুছের হাত ভেঙ্গে যায় এবং মাথায় জখম হয়। কুদ্দুছের স্ত্রী নুর ভানুর মাথায় কুপিয়ে মারাক্তক ভাবে জখম করা হয়। একই সাথে সোহরাব আলী গংরা তোতা মিয়ার বসত বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তাহারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখন পর্যন্ত সকল আসামীরা অধরা। অপরদিকে জামিনে আসা আসামী ও তার আত্মীয় স্বজনরা বাদী পক্ষের লোকজনকে মামলা তুলে নিতে ভয়-ভীতি সহ প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে।

এমতাবস্থায় বাদীসহ তার আত্মীয় স্বজনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।এ ব্যাপারে অত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, ১২ আসামীর মধ্যে ৭ আসামী জামিনে আছেন।

অন্য আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার সম্ভব হচ্ছেনা। অভিযান অব্যাহত আছে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.