সুনামগঞ্জে ৩ বন্ধু ও নারীসহ ৪জনের মৃত্যু: বাসসহ ঘাতক চালক গ্রেফতার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

২৬৬

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া-  সুনামগঞ্জে পূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ৩ বন্ধু ও এক বৃৃদ্ধ নারীসহ ৪জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় আরো ৩ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এঘটনার প্রেক্ষিতে দুলাল মিয়া (৩৮) নামের এক বাস চালককে গণধৌলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। ঘাতক চালক ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে পৃথক ভাবে ৪টি লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। মৃতরা হলো- জেলার ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কৈতক গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে রিদয়

হোসেন (২০), একই গ্রামের আঙ্গুর আলীর ছেলে লায়েক আহমদ (১৮), সাদিকুর রহমানের ছেলে জামিল মিয়া (১৯) ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষনশ্রী ইউনিয়নের রাবারবাড়ি গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর স্ত্রী রেজিয়া খাতুন (৮০)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- আজ বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ-সিলেট আ লিক মহাসড়কের নীলপুর এলাকা দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় একটি মোটর সাইকেল বৃদ্ধা রেজিয়া খাতুনকে জোরে ধাক্ষা

দিয়ে পালিয়ে যায়। এঘটনায় ওই বৃদ্ধ নারী ছিটকে রাস্তায় পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরন করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বৃদ্ধ রেজিয়া খাতুনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

অন্যদিকে গতকাল বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১০টায় জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলাবাজার এলাকায় পূজা দেখে ২টি মোটর সাইকেল যোগে ৩জন করে ৬বন্ধু হৈচৈ আনন্দ করতে করতে তাদের নিজ বসতবাড়ি ছাতক উপজেলার

কৈতক গ্রামে যাচ্ছিল। রাত অনুমান সাড়ে ১০টার সময় সুনামগঞ্জ-সিলেট আ লিক মহাসড়কের নোয়াগাঁও নামকস্থানে পৌছার পর সুনামগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী আরএমপি পরিবহণ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ২টি মোটর সাইকেলকে পিছন থেকে ধাক্ষা দেয়।

এঘটনায় ৬ বন্ধু ২টি মোটর সাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হয়। এসময় ঘাতক চালক বাস নিয়ে পালিয়ে যেতে চাইলে এলাকার লোকজন ধাওয়া করে। অবশেষে পার্শবর্তী গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে বাসটি আটক করে

ঘাতক চালক দুলাল মিয়াকে গণধৌলাই দিয়ে হাইওয়ে পুলিশের নিকট সোর্পদ করে এলাকাবাসী। অন্যদিকে গুরুতর আহত ৬ বন্ধুকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে এলাকার লোকজন কৈতক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত

চিকিৎসকরা লায়েক আহমদ, জামিল মিয়া ও রিদয় হোসেনকে মৃত বলে ঘোষনা করে। আর অন্য ৩জনের অবস্থা আশংকাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতেই তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ-সিলেট আ লিক মহাসড়কের জয়কলস হাইওয়ে থানার এসআই রেজাউল করিম ও সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাস ও ঘাতক চালককে আটক করা হয়েছে। এব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.