সুনামগঞ্জে কিশোরী ও শিশুসহ ৫জনের মর্মান্তিক মৃত্যু: এক নারী গ্রেফতার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

৩৯

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া: সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘটনায় কিশোরী ও শিশুসহ ৫জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এঘটনায় রশিকা বেগম নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মৃতরা হলেন- জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের মোল্লারগাঁও গ্রামের পুতুল দাসের ছেলে খোকন দাস (৬), একই গ্রামের লিপু চন্দ্রের ছেলে প্রণব চন্দ্র (৮), কেশব দাসের ছেলে

নিলয় দাস (৯), ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামের কবির আহমেদের মেয়ে খুকি আক্তার (১৬) ও একই উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের বানায়ত গ্রামের মৃত নুর আলীর

ছেলে আশিক মিয়া (৪০)। আজ সোমবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ও গতকাল রবিবার (২১ নভেম্বর) রাতে পুলিশ পৃথক ভাবে ঘটনাস্থল থেকে মৃতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য  মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- গতকাল রবিবার (২১ নভেম্বর) রাত অনুমান ১০টায় জেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট আ লিক মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্টে মাইক্রোবাস ও

মালবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এঘটনায় মাইক্রোবাসের ভিতরে থাকা ৩শিশু খোকন দাস, প্রণব চন্দ্র, নিলয় দাস ঘটনাস্থলেই মারা যায়, আহত হয় আরো ৪জন আহত হয়। রাতে

সুনামগঞ্জ থেকে জরুরী কাজ শেষ করে সবাই মাইক্রোবাস যোগে নিজনিজ বসতবাড়ি জগন্নাথপুরে যাচ্ছিল।

অনদিকে একই দিন সন্ধ্যায় ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে সংলগ্ন ধানের জমিতে কিশোরী খুকি আক্তারের লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয় এলাকার

লোকজন। গত শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে নিজ বাড়ি থেকে রহস্য জনক কারণে নিখোঁজ হয়ে যায় কিশোরী খুকি আক্তার। অনেক খোঁজাখুজি করে কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে অবশেষে ওই

কিশোরীর বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছিলেন। কিন্তু অবশেষে বসতবাড়ির পাশর্^বর্তী ধানের জমিতে অসহায় কিশোরীর লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু কে বা কারা তাকে হত্যা করে ফেলে

রেখেছে তা জানা যায়নি। এদিকে একই উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের বানায়ত গ্রামের মনর আলীর সাথে একটি ইঞ্জিনের নৌকা নিয়ে তারই প্রতিবেশী আশিক মিয়ার মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এঘটনার সমাধান দেওয়ার জন্য গ্রামে সালিশ বসানো হয়। ওই সালিশে মনর আলী ও আশিক মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এঘটনায় আশিক মিয়া গুরুতর আহত হলে

তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয়। এখবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মনর আলীর স্ত্রী রশিকা বেগমকে

গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যম্যে কারাঘারে পাঠায়। শান্তিগঞ্জ থানার ওসি কাজী মোক্তাদির হোসেন ও ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান পৃথক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান- এব্যাপারে থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.