কুড়িগ্রামে পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দী ৩৫ গ্রামের মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আকষ্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৩৫ গ্রামের ২২ হাজার মানুষ।

তলিয়ে গেছে ১০৭ হক্টর জমির ধান,পাট ও শাক-সবজি । এ ছাড়াও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষ। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা ও ভেলা। উপজেলার ২১টি বিদ্যালয়ে পানি উঠায় ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান।

রবিবার বিকালে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রৌমারী উপজেলার তিন ইউনিয়নের ৩৫ গ্রামের ২২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

এর মধ্য যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর, কাশিয়াবাড়ী, লালকুড়া, বিক্রিবিল, চর লাঠিয়ালডাঙ্গা, বালিয়ামারী,শ্রীফলগাতি, খেওয়ারচর, বকবান্দা, আলগারচর, পাহাড়তলী, যাদুরচর পূর্বপাড়া, তিনঘড়িপাড়া, বকবান্ধা এবং রৌমারী সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম,

ঝাউবাড়ি, দুবলাবাড়ী, রতনপুর, কলাবাড়ি, বড়াইবাড়ি, চুলিয়ারচর, উত্তর বারবাদা, ইজলামারী, ফুলবাড়ি, ভুন্দুরচর, নয়ারচর, গায়ালগ্রাম, চান্দারচর,নতুনবন্দর,বামুনেরচর খাটিয়ামারী,

বড়াইকান্দি মাদারটিলা, পূর্বইজলামারী, কড়াইকান্দি ও ঠনঠনিপাড়া এলাকার ২২ হাজার মানুষ পানিবনন্দী হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া দেখা যায়, পুরাতন যাদুরচর ও চর লালকুড়া, খেওয়ারচর ও পাহাড়তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ধান, পাটসহ ফসলি জমি।

কাশিয়াবাড়ি গ্রামের কৃষক আকবর আলী বলেন, এবার আড়াই বিঘা জমিতে ধান চাষ করা হয়। এর মধ্যে দেড় বিঘা জমির ধান কাটতে পারলেও ভারত থেকে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল এসে তাঁর এক বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। এত তার ২৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিদ্যালয়ে ও বাড়ির চারপাশে পানি উঠায় নিয়মিত স্কুল যেতে পারছেন না তারা। এতে পড়াশুনার খুব ক্ষতি হচ্ছে।

পুরাতন যাদুরচর এলাকার কৃষক হাজী আব্দুস সামাদ বলন, হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামায় এলাকার সব রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এখন নৌকা ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনা উপায় নাই। ছেলে মেয়েরা স্কুল যেতে পারছে না।

লালকুড়া গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ বলেন, ‘হঠাৎ বন্যার পানি আইসা জমিতে রাখা সব খড় ভাসাইয়া নিয়া গেছে। এখন গরুরে খাওয়ামা কি এ চিন্তায় আছি।’

যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, বন্যার পানিতে যাদুরচর ইউনিয়নের ২০০বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। এ ছাড়াও পানিবন্দী হয়ে পড়ছে এ ইউনিয়নের ১২

গ্রামের ১৭হাজার মানুষ। ভেলা আর নৌকায় পারপার হতে হয় এসব গ্রামর মানুষকে। রবিবার (১২জুন) রৌমারী ইউএনও’কে সরজমিনে বন্যা কবলিত এলাকাগুলা ঘুরে দেখানো হয়েছে এবং উপজলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দ্রুত ত্রাণ সহায়তার জন্য অনুরাধ করা হয়ছে।

উপজলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, বন্যার বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপজলা কৃষি কর্মকর্তা কাউয়ুম চৌধুরী বলেন, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১০৭ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এরমধ্যে আউশ ধান ৪৮ হেক্টর, পাট ৪২, শাকসবজি ১২ ও ৫হেক্টর তিল তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি এ পানি ৫ দিন স্থায়ী হলে ক্ষতির সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

রৌমারী উপজলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, উপজলার ২১টি বিদ্যালয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বিদ্যালয় যাদুরচর ইউনিয়নের। পানিবন্দি এলাকার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় না আসলেও কোনো সমস্যা নাই বলেও জানান তিনি।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশারাফুল আলম রাসেল বলেন, সরজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.