বুধবার, জুন ১৯, ২০২৪
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকপ্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড।

প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড।

হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ে ড্যানিশদের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের  বুধবার ওয়েম্বলিতে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ইউরোর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড।

দারুণ এ জয়ে আরেকটি অপেক্ষারও অবসান হলো ইংল্যান্ডের। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জয়ের ৫৫ বছর পর মেজর কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল ‘থ্রি লায়ন্স’।

খেলা শুরুর কয়েক মিনিটে দুই দলের কেউই প্রতিপক্ষের বক্সে সেই অর্থে কোনো জোরালো আক্রমণ শানাতে পারেনি। তবে ত্রয়োদশ মিনিটে স্টার্লিংয়ের আক্রমণ প্রতিহত করেন ড্যানিশ গোলরক্ষক।

দুই মিনিট পর ডেনমার্কের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন হ্যারি কেন। যদিও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৫ মিনিটের মাথায় ইংল্যান্ডের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন ড্যামসগার্ড। ডান পায়ের শটে বল টার্গেটে রাখতে পারেননি তিনি।

৩০তম মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করে ডেনমার্ককে এগিয়ে দেন ড্যামসগার্ড। চলতি ইউরোয় এই প্রথম গোল হজম করে ইংল্যান্ড। তবে খুব বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি ডেনমার্ক।

৩৯ মিনিটের মাথায় ড্যানিশ ডিফেন্ডার সাইমন জায়েরের আত্মঘাতী গোলে ইংল্যান্ড ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায়। ডান দিক থেকে আক্রমণে ওঠে আসা ইংলিশ উইঙ্গার সাকা বক্সের মাঝ বরাবর ক্রস দেন।

দারুণ ক্রসে স্টার্লিং পা লাগানোর আগেই স্লাইড করতে গিয়ে নিজেদের ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন ড্যানিশ অধিনায়ক। জায়েরের আগে ইউরোয় আর কোনও ড্যানিশ ফুটবলার আত্মঘাতী গোল করেননি।

চলতি ইউরোয় এই নিয়ে মোট ১১টি আত্মঘাতী গোল হলো। আগের সবক’টি ইউরো মিলিয়ে মোট ৯টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ইংলিশদের বেশকিছু আক্রমণ প্রতিহত হয় ড্যানিশদের রক্ষণে।

এর মধ্যে ৫৫ মিনিটের মাথায় হ্যারি মাগুইরের আক্রমণ ডান দিকে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন ড্যানিশ গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মিকেল। এর কিছুক্ষণ পর ফের মাগুইর ডেনমার্কের জালে বল জড়ানোর চেষ্টা করেন।

যদিও বল মাঠের বাইরে চলে যায়। ৬৪ মিনিটের মাথায় মাউন্টের আক্রমণ প্রতিহত করেন ক্যাসপার। ৭৩তম মিনিটে মাউন্টের ক্রস জালে জড়ানো থেকে আটকান ড্যানিশ গোলকিপার।

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে চাপ বাড়ায় ইংল্যান্ড। ৮০ মিনিটের মাখায় ফিলিপসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮৩ মিনিটের মাথায় স্টোনসের হেডার লক্ষভ্রষ্ট হয়।

অপরদিকে রক্ষণের দেয়াল তুলে ইংলিশদের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত সময় কাটায় ডেনমার্ক। যোগ করা সময়ে ফের মাগুইরের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ক্যাসপার। সমতা বিরাজ করায় এরপর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

২০০০ সালের পর থেকে এই প্রথমবার ইউরোর দু’টি সেমিফাইনাল গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার আসরের প্রথম সেমিতে ইতালি ও স্পেনের মধ্যকার ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে।

অতিরিক্ত সময়েও ড্যানিশ গোলরক্ষক ক্যাসপার ছিলেন রীতিমত দুর্ভেদ্য। ৯৪তম মিনিটে হ্যারি কেনের নিচু শট জালে জড়ানোর আগেই ঠেকিয়ে দেন তিনি।

১০২তম মিনিটে নিজেদের বক্সে স্টার্লিংকে ফাউল করে বসেন মাহলে। রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি উপহার দেন ইংল্যান্ডকে।

যদিও রিপ্লেতে স্টার্লিংয়ের পড়ে যাওয়ার ভঙ্গিমা দেখে এটা সত্যিই পেনাল্টির যোগ্য কি না তা নিয়ে সংশয় জাগতে পারে। তবে কেনের শট অবশ্য ঠেকিয়ে দেন পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা ক্যাসপার।

কিন্তু ফিরতি শটে বল জালে জড়ান ইংলিশ অধিনায়ক। সেই সঙ্গে বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের হয়ে সবথেকে বেশি গোল করার ক্ষেত্রে গ্যারি লিনেকারকে ছুঁয়ে ফেলেন কেন। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে দু’জনেরই গোলসংখ্যা এখন ১০।

কেন টপকে গেলেন স্বদেশী কিংবদন্তি অ্যালান শিয়েরারকে, যিনি ইংল্যান্ডের জার্সিতে বড় টুর্নামেন্টে ৯টি গোল করেছেন।

spot_img
এই বিভাগের অনান্য সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ