টঙ্গী প্রেসক্লাবে সাংবাদিক রোজিনার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

টঙ্গী থেকে মো. বশির আলম

৯৯

বশির আলম: প্রথম আলোর জৈষ্ঠ্য সাংবাদিক রোজিনার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুহস্পতিবার সকালে টঙ্গী প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ হায়দার সরকারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক পুলক ঘটক, , প্রবীণ সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন সরকার, সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আতিক দৈনিক জনকন্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক হাজী নুরুল ইসলাম,সিনিয়র সাংবাদিক শেখ শহীদুল্লাহ, মহিউদ্দিন সরকার, হাসান মামুন, শাহাজাহান শোভন, দৈনিক খবরপত্রের টঙ্গী প্রতিনিধি বশির আলম, জসিম উদ্দিন জুয়েল ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

এ সময় বক্তরা প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরুষ্কার প্রাপ্ত রোজিনা ইসলামকে প্রজাতন্তের কর্মকর্তা কর্মচারী কতৃক হেনস্তা-নির্যাতন ও মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। পাশাপাশি রোজিনা ইসলামকে নির্যাতনে জড়িত কর্তা ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার সহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানায়।

বর্তমান সময়ে দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন,দীর্ঘ সময় তাঁকে আটক রাখা হয়, শারীরিক মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হয়।

এরপর মামলা দিয়ে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করলেও এ মুহূর্তে রোজিনা ইসলাম কারান্তরীণ আছেন।

তারা মনে করে এমন কর্মকা- বর্তমান সময়ে স্বাধীন দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের দুর্নীতিবিরোধী নীতি ও মূল্যবোধের ওপর প্রচ- এক আঘাত হেনেছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এ এক অপ্রত্যাশিত অশনিসংকেত।

তারা ন্যক্কারজনক এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি জানায়।
‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ অধীনে একটি মামলা দিয়ে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তারা আরোও বলেন, আমরা অনেকেই জানি পুরোনো প্রণীত এই আইন ব্রিটিশ শাসনকে পাকাপোক্ত করার কাজে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশ এসে এ ধরনের ঔপনিবেশিক আইন ব্যবহার করে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের মূলে চরম সাংঘর্ষিক কুঠারঘাত।

সিক্রেটস অ্যাক্টের প্রয়োগ প্রকারান্তরে দেশে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে বলে আমি মনে করি।আমি এই আইনের বাতিল চাই।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে কেউই নয়, বিশেষ করে দুর্নীতিগ্রস্ত দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে জনসম্পদ হয় ক্ষতিগ্রস্ত।

সারা পৃথিবীজুড়েই সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনেক কৌশলীভাবে নানা পথ অবলম্বন করে থাকেন, তাই বলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, আটকে রাখা থেকে গ্রেপ্তার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

রোজিনা একজন স্বনামধন্য সিনিয়র সাংবাদিক। তিনি তাঁর সাংবাদিকতার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে পুরস্কৃত, তাঁর সঙ্গে আজ যা ঘটল, তা অবাধ তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো।

দেশের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতায় সাংবাদিকরা দেশ ও দশের উন্নয়নের জন্য অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

সরকার বাহাদুরকে আমরা জানাতে চাই আমরা দেশ ও দশের উন্নয়নের সহযোগী সাংঘর্ষিক কোন চিন্তা চেতনা লালন করি না।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড কে গতিশীল করে তোলার জন্য আয়নার মতো সারা দেশটাকে আমরা প্রতিনিয়ত তুলে ধরার চেষ্টা করি।

আমরা সরকারের আন্তরিক মনোযোগ কামনা করি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা চাই।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত সকল সাংবাদিক, শুভাকাঙ্ক্ষী শুভানুধ্যায়ী, প্রশাসন সহ সকলকের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ, ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ হায়দার সরকার। এ সময় তিনি আরো বলেন, সামনের দিন গুলিতে আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন এ প্রত্যাশা করছি।

 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.