হাতিয়ায় চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা সৎ মা আটক

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নোয়াখালী প্রতিনিধি

৮৫

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলার হাতিয়ায় শাবনূর বেগম ১২বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা খালেদা আক্তারকে (২৯) আটক করেছে হাতিয়া থানা পুলিশ।

ওই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার হাতিয়ার হরনী ইউনিয়ন আদর্শ বাজার এলাকায়। পুলিশ শাবনূরের নিখোঁজের ১২ঘন্টা পর মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক

বিদ্যালয়ের পিছনের একটি ঝোপঝাড় থেকে ওই স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার কওে ময়ণা তদন্তের জন্য নোয়াখালীর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।শাবনূর স্থানীয় দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ও হরনী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ আদর্শ বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের মেয়ে।

নিহতরে পিতা আবুল কাশেম জানান, গত ১২ বছর আগে সন্তান প্রসবের সময় শাবনূরের মা তার প্রথম স্ত্রী মারা যায়। প্রথম ঘরে তার ৩ মেয়ে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। এরপর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী খালেদা আক্তারের (২৯) ঘরে তার আরো তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে। তিনি স্থানীয় আদর্শ গ্রাম বাজারের একজন ব্যবসায়ী।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার মেয়ে তাকে দোকানে সহযোগীতা করে। পরে তিনি মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। দুপুরের দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন। কিন্তু তিনি দিন রাত খুজে তার কোন সন্ধ্যান পাননি।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে প্রতিবেশীরা দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের ঝোপঝাড়ের মধ্যে শাবনূরের মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাকে খবর দেয়।

নিহতের পিতা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর তার বসত ঘরের একটি কক্ষে কিছু রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায়।

তার একটি লুঙ্গি এবং নিহত শাবনূরের একটি নতুন ওড়না ঘরের মধ্যে ভিজে পাওয়া যায় এবং ঘরের পাশে দুটি লাঠি পাওয়া যায়। সৎ মা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে এবং কুপিয়ে হত্যা করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরো জানান, তার দ্বিতীয় স্ত্রী খালেদা আক্তার পারবারিক কলহের জের ধরে তাকে অনেকবার নির্যাতন করেছেন।

একাধিকবার অন্ডকোষ চেপে হত্যা করতে চেষ্টা করেন। হাতিয়া মোর্শেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, শাবনূরকে মাথায়, মুখে, ঘাড়ে,কানে দা দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করে ঝোপঝাড়ে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

নিহতের সৎ মাকে সন্দেহমূলক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.