প্রবাসীদের জন্য ঘোষিত ১০ রকমের সুবিধা

৪০

বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ষ প্রবাসীদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১০ ধরনের সুবিধা দেয়ার কথা বলেছে৷
১. প্রবাসী আয় করমুক্ত,

২. বিদেশ যেতে রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অভিবাসন লোন,

৩. বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর পুনর্বাসন লোন,

৪. বিদেশ থেকে ফিরে কেউ কোনো ব্যবসায়িক প্রকল্প করতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন,

৫. বিদেশে কোনো প্রবসী মারা গেলে লাশ দেশে আনার পর সরকার লাশ দাফনের জন্য ৩৫ হাজার অনুদান,

৬. মৃত ব্যক্তির পরিবারকে এককালীন ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান, যা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে,

৭. বিদেশে কর্মরত থাকাকালে নিয়োগকর্তা কর্তৃক কোনো প্রতারণা বা বঞ্চনার শিকার হলে, বেতন আটকে দিলে তা ঐ দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমউইংয়ের মাধ্যমে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান,

৮. বিদেশে কেউ মারা গেলে লাশ পাঠাতে সব আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপারে সাহায্য,

৯. বাংলাদেশের সব ব্যাংকে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

১০. ঢাকাসহ দেশের সব নামকরা অথবা যে কোনো স্কুল-কলেজ সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবাসীদের সন্তানদের ভর্তির জন্য বিশেষ কোটা৷

বাস্তকে কী সুবিধা পাচ্ছেন প্রবাসীরা?


অবশ্য এ সব সুবিধা তাঁরা কতটুকু পান তা নিয়ে আছে প্রশ্ন৷ প্রবসীদের দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও, তা পাওয়া যায় না৷ আর লাশ দেশে ফেরত পাঠানো, ক্ষতিপূরণের টাকা, বিশেষ ঋণ – এগুলো কাগজেই আছে৷ বাস্তবে এর দেখা মেলা ভার৷ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সামনে গেলেই চিত্রটি পরিষ্কার হয়৷ সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করেন৷ তাঁদের মধ্যে বড় একটি অংশ হলো তাঁরা, যাঁরা বিদেশ থেকে ফেরত এসেছেন৷ এঁরাই ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য মাসের পর মাস ঐ অফিসে ধরনা দেন৷


প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতকরা একভাগ কোটার কথা বলা হলেও, বাস্তবে কিন্তু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই এই নিয়ম মানে না৷ এখানেই শেষ নয়৷ বাংলাদেশে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নামে একটি ব্যাংকের প্রক্রিয়া চললেও, তা এখনো তফসিলি ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি৷ আর দু’টি এনআরবি (নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি) ব্যাংক কাজ শুরু করলেও, তারা এখনো সাধারণ ব্যাংকের মতোই কাজ করছে৷ তবে এখানে প্রবাসীরা বিনিয়োগ করছেন৷

জনশক্তি এবং অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ এ বছর পোশাক খাতকেও ছাড়িয়ে গেছে৷ বাংলাদেশ সর্বশেষ পোশাক খাত থেকে আয় করেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷”


অথচ প্রবাসীদের জন্য সেই তুলনায় তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই, জানান তিনি৷ বলেন, ‘‘বাজেটে প্রবাসী কল্যাণে মাত্র ০.০২ ভাগ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷ নানা ধরনের পেশাজীবীদের সন্তানদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু প্রবাসীদের জন্য কিছু নেই৷”


দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকারের দাবি জানিয়ে আসছেন৷ তাঁরা চাইছেন, প্রবাসে বসেই তাঁরা নির্বাচনে সময় ভোট দেবেন৷ কিন্তু সরকার বারবার এই দাবি পূরণ করার কথা বলে আসলেও, তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই৷ জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলি হায়দার চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই উদ্যোগের আদৌ কোনো অগ্রগতি আছে কিনা, তা আমাদের জানা নেই৷ প্রথমে এটা ব্রিটেন-প্রবাসীদের জন্য চালু করার কথা ছিল৷ পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের জন্য৷ কিন্তু তা হচ্ছে না৷ তবে প্রবাসীরা চাইলে দেশে ভোটার হতে পারেন এবং দেশে এসে ভোট দিতে পারেন৷”

বাংলাদেশে প্রবাসীদের যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আছে তা নিয়েও চলছে নানা কাণ্ড৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সম্পদ বেদখল হয়ে যায়, আর পরিবারের সদস্য যাঁরা থাকেন তাঁদের থাকতে হয় নিরাপত্তাহীনতায়৷ হাসান আহমেদ চৌধুরী জানান, ‘‘প্রবাসীদের সম্পদের প্রতি একশ্রেণির প্রভাবশালীর লোভ আছে৷ তাঁরা পরিবারের কর্তার অনুপস্থিতে এঁদের সম্পদ দখল করতে চান৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কেউও এ পরিস্থিতির সুবিধা নিতে চান৷ ফলে প্রবাসীরা দু’দিক থেকেই বিপদে থাকেন৷ এ জন্য প্রয়োজন প্রবাসীদের জন্য একটি ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার’৷

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.