লাবু চৌধুরীতেই ফরিদপুর-২, আসনের আ’লীগ নেতাকর্মীরা স্বস্তিতে

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

৪৭

মনির মোল্যা,  সেকাল আর একাল। ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আগে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ-মারামারী, খুন ও জখমের খবর পাওয়া যেতো। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর অন্যতম সদস্য,

জাতীয় সংসদের উপনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি ও তার রাজনৈতিক প্রতিনিধি কৃষি গবেষক কলামিষ্ট শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর প্রচেষ্টায় অশান্ত সালথা-নগরকান্দা আজ ৩ বছর ধরে শান্ত রয়েছে।

সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। সালথা-নগরকান্দায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। লাবু চৌধুরীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগ আজ শক্তিশালী।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানায়, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর জৈষ্টপুত্র আয়মন আকবর বাবলু চৌধুরী ২০০৮ ইং সালথা থেকে ২০১৮ ইং সাল পর্যন্ত তার মায়ের সাথে সালথা-নগরকান্দার রাজনীতি করেছেন।

তিনি মায়ের নাম ভাঙ্গিয়ে কয়েকজন হাইব্রিড কর্মীর কথা মতো এলাকায় এক তরফা রাজনীতি করতেন। তখন বাবলু চৌধুরীর ভয়ে কেউ মূখ খুলতো না। অনেক বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থককে বাবলু চৌধুরী দলে ঢুকিয়েছেন।

হাইব্রিডদের কদর করতেন আর আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে রাখতেন। যার জন্য সংঘর্ষ মারামারী লেগেই থাকতো।

তার পক্ষপাতিত্বর জন্য গ্রামের এক পক্ষের মাতবররাও সংঘর্ষের জন্য উৎসাহী থাকতেন। খুন-জখম হতো অহরহ।

এছাড়াও নেতার কথার বাইরে গিয়ে হামলা-মামলার স্বীকার হয়ে জেল খেটেছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ও নিরীহ মানুষ।

এমন ঘটনার সময়ে সালথার নির্যাতিত কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বাবলু চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্দোলে নামলেন। তারা আন্দোলে সফল হলেন। বাবলু চৌধুরীর পতন হলো।

এরপর ২০১৮ ইং সালের এপ্রিল মাসে সালথা-নগরকান্দার রাজনীতিতে আসলেন সংসদ উপনেতার কনিষ্টপুত্র ও তার রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী।

তিনি মায়ের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য ও নিরীহ সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। লাবু চৌধুরী কখনও পক্ষপাতিত্ব করেন না।

তাই এখন আর আগের মতো সংঘর্ষ মারামারীর ঘটনা ঘটে না। সাবইকে এক সাথে নিয়ে চলতে পছন্দ করেন। লাবু চৌধুরী আসার পর থেকে ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে সালথা-নগরকান্দার মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে।

আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার জন্য লাবু চৌধুরী সালথা-নগরকান্দায় তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন। তিনি সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে সব সময় কঠোর অবস্থানে থাকেন।

জাহিদুর রহমান নামে এক শিক্ষক বলেন, আগে শিক্ষাখাত থেকে শুরু করে সকল কাজে একতরফাভাবে চালাতো। অশিক্ষিত লোকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পেতো।

আর বর্তমানে লাবু চৌধুরীর নির্দেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে সু-শিক্ষিত মানুষ দায়িত্বে আছেন। সেজন্য শিক্ষার উন্নয়ন হচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠণিক সম্পাদক চৌধুরী সাব্বির আলী বলেন, আয়মন আকবর বাবলু চৌধুরীর সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনসহ শত শত নেতাকর্মী নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন।

বর্তমানে শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর সময়ে এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনঠাসা অবস্থায় নেই। লাবু চৌধুরীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আজ সু-সংগঠিত।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান ফকির মিয়া বলেন, বাবলু চৌধুরীর সময়ে জামাত-বিএনপির লোককে দলে ঢুকিয়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের কোনঠাসা করে রেখে ছিলো।

অনেক নেতাকর্মীর উপর হামলা করা হয়েছে। প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা ইমামুল হোসেন তারা মিয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনসহ অসংখ্য নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছে ।

পুরো উপজেলা অশান্ত হয়ে ওঠে তৎকালীন সময়ে। তখন সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে লাবু চৌধুরী এলাকায় আসেন। তিনি আসার পর এলাকা শান্ত হয়।

এখনও এলাকা শান্ত আছে এবং আওয়ামী লীগের নিবেদীত নেতাকর্মীরাও মূল্যায়ন পাচ্ছেন। নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন মিয়া বলেন,

২০০৮ ইং সালে আমাদের নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সাথে তার বড় ছেলে আয়মন আকবর বাবলু চৌধুরী রাজনীতিতে আসেন। তিনি সব সময় কান কথা শুনতেন। বদ মেজাজী ছিলেন,

যার জন্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অশান্তিতে ছিলেন। আর বর্তমানে উপনেতার ছোট ছেলে শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী গুরুত্ব সহকারে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কথা শোনেন। তারপর কাজ করেন।

যার জন্য এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছে। নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সোবাহান মাষ্টার বলেন, বাবলু চৌধুরীর সময়ে ফরিদপুর-২,

আসনের আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। বর্তমানে লাবু চৌধুরীর নেতৃত্বে সালথা-নগরকান্দার মানুষ স্বস্তিতে আছে। আমরা নেতাকর্মীরাও এখন ঐক্যবদ্ধ আছি।

সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াদুদ মাতুব্বার বলেন, আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হয়েও বাবলু চৌধুরীর সময়ে অনেকবার নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে ৮/১০ টি মিথ্যা মামলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের বহু ত্যাগী নেতাকর্মী বাবলু চৌধুরীর সময়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। ত্যাগী ও নিবেদীত কর্মীদের দলে স্থান দেওয়া হয়নি। অনেক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছে। যখন নির্যাতন বেড়ে যায়,

ঠিক তখন উপনেতার কনিষ্টপুত্র শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী ফরিদপুর-২, আসনে শান্তির দূত হয়ে আসেন। লাবু চৌধুরীর নেতৃত্বে সালথা-নগরকান্দা আওয়ামী লীগ এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। সংঘর্ষ-মারামারী,

খুন-জখম ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আগের তুলনায় নেই বললে চলে। মানুষ এখন শান্তিতে আছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিয়া বলেন,

আয়মন আকবর বাবলু চৌধুরী যখন সংসদ উপনেতার এপিএস ছিলেন, তখন তিনি সালথা-নগরকান্দা চালাতেন। বিএনপি-জামাতের লোক তিনি দলে এনে জায়গা করে দিয়েছেন।

তখন হাইব্রিডদের দাপটে আমরা কোনঠাসা হয়ে পড়ি। তার আমলে ১১টি মিথ্যা মামলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। দশ মাস জেল খেটেছি। এছাড়াও অগণিত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে তৎকালীন সময়ে।

তখন বাবলু চৌধুরীর নির্যাতনে অতীষ্ট হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা। তারপর আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাবলু চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করি।

আন্দোলনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’ বাবলু চৌধুরীকে সালথা-নগরকান্দা থেকে সরায় দেন। পরে ২০১৮ ইং সালে সংসদ উপনেতার প্রতিনিধি হিসেবে সালথা-নগরকান্দায় আসেন শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী।

তিনি আসার পর থেকেই এখানে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে। লাবু চৌধুরীর ৩বছরে সালথা-নগরকান্দায় কোন বিএনপি-জামাতের লোক আওয়ামী লীগে যোগদান করে নাই।

আগের মতো সংঘর্ষ-মারামারী ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নাই বললেই চলে। সব মিলিয়ে লাবু চৌধুরী নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি এবং শান্তিতে আছি।

সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী বলেন, আমার মা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সালথা-নগরকান্দা ও কৃষ্ণপুরকে নগরে পরিনিত করেছেন।

আমার মা’ তার সারাটি জীবন সাধারণ মানুষের মূখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করে এসেছেন। আমি আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হাতকে শক্তিশালী করতে সালথা-নগরকান্দা ও

কৃষ্ণপুরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এক ছাতার নিচে রাখার জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ করছি। বর্তমানে ফরিদপুর-২, আসনের আওয়ামী লীগ বিগতদিনের চেয়ে এখনস অনেক শক্তিশালী।

আমি আজীবন নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.