এইচএসসি’র প্রবেশপত্র জন্য ৩শ’ টাকা নি‌চ্ছেন অধ্যক্ষ

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

৮৭

পরীক্ষার ঠিক এক‌দিন পূর্বে ‘অ‌নেকটা জি‌ম্মি ক‌রে’ টাকার বি‌নিম‌য়ে শিক্ষার্থী‌দের প্রবেশপত্র দেওয়ার অভিযোগ উ‌ঠে‌ছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামরী উপ‌জেলার ভুরুঙ্গামারী ম‌হিলা ডি‌গ্রি ক‌লে‌জের অধ্যক্ষ খালেকুজ্জামানের বিরু‌দ্ধে।

ফরম পূর‌ণের সময় শিক্ষার্থী‌দের কা‌ছে পরীক্ষা সং‌শ্লিষ্ট সকল ফি নেওয়া হলেও বি‌ধি ব‌হির্ভুতভা‌বে টাকার বি‌নিম‌য়ে প্রবেশপত্র নি‌তে বাধ্য কর‌ছেন তিনি। টাকার বি‌নিম‌য়ে প্রবেশপত্র দেওয়ার বিষয়‌টি স্বীকার ক‌রে‌ছেন অধ্যক্ষ খা‌লেকুজ্জামান।

ভুক্ত‌ভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ফরম পূর‌ণের সময় নির্ধা‌রিত ফি দি‌য়ে তারা ফরম পূরণ ক‌রে জমা দিয়েছেন। এসময় বোর্ড কর্তৃক নির্ধা‌রিত প্রবেশপত্র খরচও নেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

এরপরও পরীক্ষার আ‌গের দিন তা‌দের‌কে প্রবেশপত্র নেওয়ার জন্য ৩শ থে‌কে ৪শ টাকা ক‌রে দি‌তে বাধ্য করা হ‌চ্ছে। অন্যথায় তা‌দের প্রবেশপত্র দেওয়া হ‌চ্ছে না।

এটা‌কে এক প্রকার জি‌ম্মি ক‌রে টাকা আদায় করার প্রক্রিয়া ব‌লে অ‌ভি‌যোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।অধ্যক্ষ খালেকুজ্জামান জানান,কলেজ চালানোর খরচ মেটাতে এভাবেই উপজেলার সকল

কলেজের অধ্যক্ষরা টাকার বিনিময়ে প্রবেশপত্র দিচ্ছেন। আর এ নিয়ে তার কাছে বোর্ডের চিঠিও আছে বরে দাবি করেন তিনি।

ফরম পূর‌ণের সময় কেন্দ্র ফি নেওয়া হলেও কেন আবার একই কারণ দে‌খি‌য়ে টাকা নেওয়ার বৈধতা দিচ্ছেন, এমন প্রশ্নে অধ্যক্ষ ব‌লেন, ‘ সে সময় আমরা কেন্দ্র ফি নেই নি।’ ত‌বে টাকা আদা‌য়ের বিপরী‌তে কোনও র‌শিদ দেওয়া হ‌চ্ছে না ব‌লে জানান তি‌নি।

ক‌লেজ কর্তৃপ‌ক্ষের তথ্যমতে, এবছর এই ক‌লেজ থে‌কে বি‌ভিন্ন বিভা‌গে ২৩২ জন শিক্ষার্থী এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশ নি‌চ্ছেন। ‌শিক্ষার্থী প্রতি প্রবেশপত্র বাবদ ৩ শ’ টাকা হা‌রে আদায় কর‌লে অ‌তি‌রিক্ত ৬৯ হাজার ৬ শ’ টাকা আদায় কর‌বে ক‌লেজ কর্তৃপক্ষ।

প্রবেশপত্র বাবদ টাকা আদা‌য়ে অধ্যক্ষের এমন দা‌বি‌র আইনগত কোনও বৈধতা নেই ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন ভূরুঙ্গামারী উপ‌জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অ‌ফিসার আব্দুর রহমান।

তি‌নি আরো ব‌লেন, ‘প্রবেশপত্র দেওয়ার বিনিময়ে শিক্ষার্থী‌দের কা‌ছে এভা‌বে টাকা আদা‌য়ের কোনও বৈধতা নেই। আমি বিষয়‌টি নি‌য়ে খোঁজ নে‌বো।’ অতী‌তে ওই অধ্যক্ষের এমন কর্মকান্ড নি‌য়েও উষ্মা প্রকাশ ক‌রেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অ‌ফিসার (‌ডিইও) শামসুল আলম জানান, র‌শিদ ছাড়া এভা‌বে টাকা আদা‌য়ে বিষ‌য়ে কঠোরভাবে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারেন।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.