সুনামগঞ্জে মেয়ের হাতে মাসহ ৫জনের মর্মান্তিক মৃত্যু: আটক ১২

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

৭৯

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া-সুনামগঞ্জে গত ২দিনে মেয়ের হাতে মাসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২জনেকে আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন- জেলার তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের আমতলী কুড়েরপাড় গ্রামের আক্তার মিয়া স্ত্রী গুলজাহান বেগম (৫৫), একই উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বুরুঙ্গাছড়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে শাহিন

মিয়া (২৫), দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদের ছেলে রুহেব মিয়া (৪৫), ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে আনিকা রহমান (৬) ও একই উপজেলার মানসীনগর গ্রামের দিনমজুর উস্তার আলীর ছেলে কারী সালেহ আহমদ (২০)।

গতকাল সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশ পৃথক ভাবে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- গতকাল সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল

কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত গুলজাহান বেগমের মৃত্যু হয়। এর আগে গত রবিবার রাত অনুমান সাড়ে ৮টায় ভাত খাওয়া নিয়ে মা গুলজাহান বেগম ও তার প্রতিবন্ধী মেয়ে খাদেজা বেগমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

ওই সময় মেয়ে উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে তার মায়ের মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর অবস্থায় মা গুলজাহান বেগমকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে সেখান থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার পর চিকিৎসধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মা গুলজাহান বেগমের মৃত্যু হয়।

এদিকে সকাল ১০টায় একই উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বুরুঙ্গাছড়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার বসতবাড়ির ভিতরে তারই ছেলে শাহিন মিয়ার হাত-পা বাঁধা ঝুলন্ত লাশ দেখে থানায় খবর দেয় এলাকাবাসী।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল তল্লাশী করে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তবে ওই চিরকুটে কি লেখা ছিল তা জানা যায়নি। কিন্তু ওই যুবকের রহস্য জনক মৃত্যুর খবর জানা জানি হওয়ার পর

চারদিকে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে দুপুরে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের উদীর বিল জলমহল দখল করা নিয়ে আমেরিকা প্রবাসী কাজল নুর ও

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়ের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রে আঘাতে ঘটনাস্থলেই রুহেব মিয়ার মৃত্যু হয়। এঘটনায় আরো ৩৫জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে খবর

পেয়ে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১২জনকে আটক করে জলমহাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ান করা হয়।

আর আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে সন্ধ্যায় আহত শিশুকন্যা আনিকা রহমান ও কারী সালেহ আহমদ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এরআগে গত শনিবার সন্ধ্যায় মামার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার পথে

ছাতক-জাউয়া বাজার সড়কের টেটিয়ারচর এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় শিশুকন্যা আনিকা রহমানকে একটি সিএনজি চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

অন্যদিকে কারী সালেহ আহমদ তার বন্ধুর সাথে মোটর সাইলেকেল যোগে সিলেট যাওয়া পথে দূর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়।

পরে শিশুকন্যা আনিকা ও কারী সালেহ আহমদকে পৃথক ভাবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

দিরাই থানার ওসি আজিজুর রহমান, তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফদার ও ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন সাংবাদিকদের পৃথক ঘটনায় ৫জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান- এব্যাপারে থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.