খালিয়াজুড়ি উপজেলায় ইজারাকৃত জলমহাল অধিকাংশই ভরাট,ইজারাদার বিপাকে

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ

১০৮

নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ি উপজেলায় জলমহালগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। এ ছাড়া অন্তত ৮-১০ টি জলমহালের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভরাট হয়ে পতিত জমিতে

পরিণত হয়েছে। শিগগিরই এসব জলমহাল খনন করা না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সব কটি জলমহাল পুরোপুরি ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় জেলা জলমহালের (২০ একরের বেশি আয়তনের) সংখ্যা ৩৮ টি এবং উপজেলা জলমহালের (২০ একরের কম) সংখ্যা ৩৩টি। অপর দিকে প্রায় ১০

টির মতো জলমহাল ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলমহালের ইজারাদাররা মারাত্মক ক্ষতি ও সরকারের বাৎসরিক রাজস্ব দিতে পারছে না।এতে একদিকে যেমন লাভবান হচ্ছে না অন্য

দিকে সরকারি রাজস্ব দিতে না পারলে সরকারি চাপ। কোথাও যেন পালানোর উপায় নেই। এর মধ্যে “মরাধনু জগন্নাথপুর ঘোনা ” বিল প্রায় ৮০ শতাংশ ভরাট হয়ে গেছে , অন্যান্য বছর লাভবান হলেও দুই থেকে তিন বছর যাবত পলি মাটিতে ভরাট হওয়ায় মাছ থাকছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে,মেন্দিপুর ইউনিয়নের জলমহালের ” মরাধনু জগন্নাথপুর ঘোনা” সহ বেশিভাগ জলমহাল ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভরাট হয়ে গেছে। এতে ইজারা না কমলেও মাছ তেমন পাওয়া যাচ্ছে না এতে বিপাকে পড়েছে ইজারাদাররা।

ইজারাদার জানান, মরাধনু জগন্নাথপুর ঘোনা নদী ৪২ একর এর জায়গার মধ্যে বেশিরভাগ জলমহাল চরে পরিণত হয়েছে। ১৫ লক্ষ ৫০ হাজার বাৎসরিক রাজস্ব , খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ লক্ষের মতো।

এর মধ্যে ৩ বছরের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছিল এখন তো কোন মাছেই নেই। কোথা থেকে দিবো আমরাই চলবো কিভাবে।

তবে এই নদীর বহির্ভূত দুরেন্দেরও বিলবিল্ল খাড়ির ১১ একর জলাভূমি যুক্ত করে দেওয়ার জন্যে জেলা প্রশাসক বরাবর ২৪ অক্টোবর ২০১৭ সালে লিখিত আবেদন করেছি, উপজেলা থেকে

আমাদের পক্ষে প্রতিবেদন ও দেওয়া হয়েছে। এখন জেলা প্রশাসক সুদৃষ্টি দিলে বেঁচে যেতাম। না হয় নিঃস্ব হয়ে পড়বো । তাদের মরা বাঁচা জেলা প্রশাসকের হাতে বলে ও জানান।

কয়েকজন মৎস্যজীবী জানান, জলমহালগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত পলিমাটি পড়ে ক্রমশ নাব্যতা হারিয়ে এগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত বাঁধ ও জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণের ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া সম্প্রতি মাছ শিকারের নেশায় অনেকেই পাউবোর বাঁধ কেটে দেওয়ায় জলমহালে পলি জমছে।

জলমহাল ইজারা নিয়ে লাভবান হওয়া তো দূরে থাক খরচটা উঠাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা তাই জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান এঁর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

পশ্চিম জগন্নাথপুর বিউটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো.অলপত আলী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন উপজেলার অন্যতম বৃহৎ “মরাধনু জগন্নাথপুর ঘোনা ” নদী নামক জলমহালটি বন্দোবস্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু ক্রমশ পলিমাটি পড়ে জলমহালটির প্রায় ৮০ শতাংশ ভরাট হয়ে গেছে।

এটি ভরাট হওয়ায় একদিকে যেমন মাছ আগের মতো পাওয়া যায় না, তেমনি এটির আশপাশের জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে হাওরের কৃষক ও মৎস্যজীবীরা চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।’

নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী জানান,প্রতি বছরেই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে এতে কৃষকরা ফসল নিয়ে ঘরে উঠতে পারছে।আর বাঁধ ভেঙ্গে ও পানি স্রোতের সাথে মাটি ভেসে

যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এসব বাঁধের পলিমাটি পড়ে জলমহালগুলো ভরাট হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বছর-বছর দেওয়া বেড়িবাঁধগুলোর মাটি ক্ষয় হয়ে জমি ও জলমহালগুলোতে পড়ছে।’

খালিয়াজুড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এমন আরিফুর তিনি জানান, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছে তারা তখন এর প্রতিবেদন ও দেন,বাকিটা জেলা প্রশাসক বিবেচনা করবেন।

মরাধনু জগন্নাথপুর ঘোনা নয়, বেশিরভাগ জলমহালগুলোতে একই অবস্থা বিরাজ করছে। তিনি আরও জানান, খনন করা হলেই এর নাব্যতা ফিরে আসবে।

 

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.